প্রধান খবর

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান হামলা

ইয়েমেনে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হুথি নিয়ন্ত্রিত একাধিক কৌশলগত এলাকায় সৌদি জোট অন্তত ২৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। একই সাথে গত এক সপ্তাহে হুথি অধ্যুষিত অঞ্চলে সৌদি বিমান হামলার সংখ্যা তিনশতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে, তায়েজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় সরকারি বাহিনীর সাথে তুমুল সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার।

হুথিদের দাবি অনুযায়ী, তায়েজ, হাজ্জাহ, মারিব, হোদেইদা ও সাদাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান থেকে এই তীব্র হামলা চালানো হয়। এই পরিস্থিতির মাঝেই মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হওয়া একটি হুথি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে তাইফ প্রদেশে ১ জন নিহত ও ২ জন আহত হন। সৌদি মুখপাত্র স্পষ্ট সতর্ক বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, মক্কার নিরাপত্তা তাঁদের জন্য ‘রেড লাইন’। ড্রোনের এই ঘটনার প্রতিবাদে ও সৌদি হামলার বিরুদ্ধে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হাজার হাজার হুথি সমর্থক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ভুত সংকট নিরসনে মার্কিন প্রতিনিধিরা ওমানের মাসকাটে হুথি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে হুথিরা আশ্বস্ত করেছে যে, সৌদি আরবের সাথে সম্পৃক্ত নয়—এমন কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে তারা হামলা চালাবে না। তবে ওয়াশিংটন নতুন করে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে জড়াতে চাচ্ছে না, কারণ তারা ইতোমধ্যে ইরান কেন্দ্রিক ভৌগোলিক সংকটে ব্যস্ত রয়েছে।

এদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষায় তৎপরতা বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। লোহিত সাগরে নিজেদের সামরিক মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপিডিস’-এর সতর্কতার মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে জানিয়েছেন, হুথিদের এমন আক্রমণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক হুমকি। ফলে ইয়েমেনের এই সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এখন কেবল একটি আঞ্চলিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈশ্বিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *