ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তা না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে হুথি নেতাদের এক গোপন ও সফল বৈঠকের পর এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় রাখা এবং লোহিত সাগরে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোতে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হুথিরা। তবে সৌদি-সংশ্লিষ্ট নৌযানগুলোকে তারা হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বহাল রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষ্ক্রিয়তার ফলে এখন হুথিদের দমনে রাজনৈতিক সমঝোতা অথবা পাকিস্তান ও তুরস্ককে সঙ্গে নিয়ে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনে বাধ্য হচ্ছে রিয়াদ।
এদিকে, উদ্ভূত আন্তর্জাতিক সংকট ও লোহিত সাগরে চলাচলের নিরাপত্তাহীনতায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের উপরে পৌঁছে গেছে। এর ওপর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ চেইন আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান ভারী করতে সম্প্রতি রিয়াদ দাবি করেছে, হুথিরা মুসলিমদের পবিত্র নগরী মক্কা লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল, যা মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়। তবে হুথি নেতৃত্ব কঠোর ভাষায় এ দাবিকে ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগ ঘুরিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
অন্যদিকে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর চলমান সংঘাত নিরসনে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক পদক্ষেপের মধ্যে চীনও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জোর আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, ইয়েমেন বা লোহিত সাগরে সংঘাতের বিস্তার তাদের কাম্য নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় চীন দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পূর্বের সমঝোতার ভিত্তিতে কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

