প্রধান খবর

দুদকের অনুসন্ধানকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বললেন আসিফ মাহমুদ

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে হেয় ও বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংস্থাটি বিভিন্ন নথি তলব করেছে জানিয়ে তিনি এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলের মতোই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে পুনর্বার ব্যবহার করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতিতে ওঠা সমস্ত অনিয়ম ও ঘুসগ্রহণের অভিযোগকে পুরোপুরি অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদক সচিব জানান, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়ে নথি তলব করা হচ্ছে।

তবে এই পদক্ষেপকে নিরপেক্ষ বলতে নারাজ এনসিপি মুখপাত্র। তদন্ত প্রক্রিয়ার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অনুসন্ধান শুরু হতে না হতেই গণমাধ্যমে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা মূলত চরিত্রহননের কৌশল। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পেছনে যথাযথ আইনি ও পিএসসির সুপারিশ থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বিরোধী শক্তির দুর্নীতি আড়াল করতেই এসব মুখরোচক অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।

বর্তমান দুদক কমিশনকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীনির্ভর উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত সংস্কার না হওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আচরণ না করে রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হলে এই কমিশনের সাথে অতীত প্রশাসনের ব্যবস্থার কোনো তফাত থাকে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *