নেপালে গত সপ্তাহের আকস্মিক ও প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় ঘরবাড়ি, ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং জাতীয় অবকাঠামোসহ সার্বিক খাতে প্রায় ৩৮৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি বা প্রায় ২৫৬ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই ভয়াবহ ক্ষতির হিসাব নিশ্চিত করেছেন।
এনডিআরআরএমএ-এর প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, দুর্যোগের পর প্রথম চার মাসের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সড়ক মেরামত, গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সুপেয় পানির সংকট নিরসন ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে অন্তত ৫ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিভাগের সহায়তায় ক্ষতির প্রাথমিক এই খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ শেষে খুব শীঘ্রই ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে অবিলম্বে অন্তত ২০ হাজার ঘরবাড়ি নতুন করে নির্মাণ করতে হবে, যার মধ্যে কমপক্ষে ৭ হাজার ৫০০টি বসতবাড়ি প্লাবনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই দুর্যোগের ফলে হাজার হাজার পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে অথবা অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে জরুরি অবকাঠামোগত ক্ষতি হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রশাসনকে তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একটি বিশাল হিমবাহ ধসে ত্রিসুলী নদীতে বরফ, কাদা ও পাথরের এক প্রচণ্ড পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বান নেমে আসে। ওই আকস্মিক প্লাবনে বিস্তীর্ণ এলাকা মুহূর্তে লণ্ডভণ্ড হয়ে ১,২৫০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনায় এখনও ৪,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

