প্রধান খবর

শূকরের কিডনি নিয়ে ৯ মাস বাঁচার রেকর্ড

বিজ্ঞান ও চিকিৎসা প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অভাবনীয় অগ্রগতির সৃষ্টি করে জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি নিয়ে টানা ৯ মাস বেঁচে থেকে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ বছর বয়সী টিম অ্যান্ড্রুস। দীর্ঘ ২৭১ দিন পর সফলভাবে শূকরের অঙ্গটি অপসারণ করে একজন মৃত দাতার থেকে পাওয়া মানব কিডনি তার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।

টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে অ্যান্ড্রুসের দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। বিশ্বব্যাপী মানব অঙ্গের মারাত্মক সংকট থাকায় চিকিৎসকদের পক্ষে দ্রুত সময়ে তার জন্য উপযুক্ত মানব কিডনি জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে তার জীবন বাঁচাতে ও চিকিৎসাকাজে সাময়িক সেতু তৈরির কৌশল হিসেবে বিশেষ একটি ইয়ুকাটান মিনিয়েচার জাতের শূকরের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অনন্য উদ্যোগ নেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

প্রতিস্থাপিত শূকরের জিনে একাধিক কৃত্রিম বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন আনা হয়, যাতে মানবদেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা একে প্রত্যাখ্যান না করে এবং যেকোনো প্রাণঘাতী ভাইরাসের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়। অবিশ্বাস্যভাবে, এই ২৭১ দিন চিকিৎসায় অ্যান্ড্রুসের কোনো ডায়ালাইসিস লাগেনি। প্রতিস্থাপনের ৬ মাস পর অঙ্গটির রক্তনালিতে কিছু জটিলতা দেখা দিলে পরবর্তী সময়ে তা সরিয়ে ফেলা হয়। তবে এটি প্রথমবারের মতো প্রমাণ করেছে যে মানব অঙ্গ পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রাণী অঙ্গ সাময়িক সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রথম জীবিত ব্যক্তির দেহে শূকরের কিডনি বসানো হলেও ওই রোগী ৫২ দিনের মাথায় প্রাণ হারান। এর আগে কোনো প্রাণীর অঙ্গ নিয়ে দুই মাসের বেশি সময় বেঁচে থাকার কোনো রেকর্ড চিকিৎসা জগতে ছিল না। অ্যান্ড্রুসের এই অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন চিকিৎসায় যুগান্তকারী সম্ভাবনা তৈরি করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, বাণিজ্যিক প্রয়োগের আগে আরও বড় পরিসরে এটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *