বলিউডের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান নিজের গ্ল্যামার ও অভিনয়দক্ষতায় ভক্তদের হৃদয়ে রাজত্ব করলেও, জীবনের একটি সিদ্ধান্তে তাঁর মনে রয়ে গেছে গভীর আক্ষেপ। রূপালী পর্দায় নাম লেখানোর তাড়নায় মাত্র একাদশ শ্রেণির পরই থামিয়ে দিতে হয়েছিল প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা। জীবনের এই অপূর্ণতা তাঁকে আজও প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তোলে বলে এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, সংসার ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা উত্থান-পতনের গল্প তুলে ধরেন কারিনা। সেখানে একাদশের পর পড়াশোনা বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি জীবনের অন্যতম একটি ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেই সময় অভিনয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া না করা এবং নিজেকে প্রমাণ করার তাড়নাই তাঁকে এই পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছিল। তবে মাঝপথে লেখাপড়া থেমে যাওয়ার চাপা যন্ত্রণা তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন।
নিজের জীবনের এই শিক্ষা থেকে শিক্ষা নিয়ে দুই ছেলে-তৈমুর ও জাহাঙ্গীরকে নিয়ে বেশ সচেতন তিনি। কারিনা চান তাঁর সন্তানরা যেন আগে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পুরোপুরি শেষ করে, তারপর নিজেদের পছন্দের পেশা বেছে নেয়। বড় ছেলে তৈমুরের কথা বলতে গিয়ে কারিনা জানান, চলচ্চিত্র পরিবারে জন্ম হলেও তৈমুরের আপাতত অভিনয়ের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। বরং সে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার বা ফুটবলার হতে চায়, আর সন্তানের এই ইচ্ছেতে তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখার পর ‘জাব উই মেট’, ‘থ্রি ইডিয়টস’ বা ‘চামেলি’-র মতো অসংখ্য সুপারহিট চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন কারিনা। ২০১২ সালে অভিনেতা সাইফ আলী খানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই তারকাকে ২০২৪ সালে সর্বশেষ ‘সিংহাম এগেইন’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে পর্দায় কাজের চাপ কমিয়ে সন্তানদের সঠিক মেধা ও শিক্ষার বিকাশে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন এই বলিউড কুইন।

