যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বুধবার (২৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। এর আগে মঙ্গলবার মূল্যবান ধাতুটির দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
বুধবার সকালে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৬৪২ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭০০ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান ডলার-টাকা বিনিময় হার ১ ডলার প্রায় ১২২ টাকা ৮০ পয়সা ধরে হিসাব করলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স স্পট সোনার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার ১২৮ টাকা। এক ট্রয় আউন্সে ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম এবং এক ভরিতে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ধরে হিসাব করলে প্রতি ভরি সোনার আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৮০২ টাকা।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই হিসাব বাংলাদেশের স্থানীয় খুচরা বাজারদরের সঙ্গে সরাসরি মিলবে না। স্থানীয় বাজারে সোনার মূল্য নির্ধারণের সময় আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, মজুরি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ভিন্ন হতে পারে। এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের দিকে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে দেশটির সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান সম্পর্কে বাজারে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।
সোনার বাজারে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও প্রভাব ফেলছে। ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ায় তেলের দাম কিছুটা কমেছে। একই সময়ে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা নিয়েও বাজারে আলোচনা রয়েছে। বিশ্লেষক ওয়াং তাওয়ের মতে, স্পট সোনার দাম ৪ হাজার ৬৮১ ডলারের প্রতিরোধস্তর অতিক্রম করতে পারলে তা ৪ হাজার ৭০৭ থেকে ৪ হাজার ৭৪৩ ডলারের মধ্যে উঠতে পারে।

