পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, এটি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি উত্তরাঞ্চলের পানি সংকট, নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং কৃষি ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় আগে অল্প গভীরতায় পানি পাওয়া গেলেও বর্তমানে প্রায় ২০০ ফুট গভীরেও পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের কিছু এলাকায় ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট গভীরেও পানির সংকট দেখা দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এসব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরুকরণের ঝুঁকি বাড়ছে। কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের অনেক নদী অস্তিত্বসংকটে রয়েছে। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত হলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সার বিতরণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতি ইউনিয়নে ইউএনওর মাধ্যমে একজন করে সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষকেরা সহজে সার পান এবং কেউ অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করতে না পারে। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

