‘মাদানি দিহায়াতি, উম্মাহ দিবারকাতি’ প্রতিপাদ্যে মালয়েশিয়াজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় আলোচনা, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ-সালাম ও শোভাযাত্রায় হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।
জাতীয় পর্যায়ের প্রধান অনুষ্ঠান সেলাঙ্গরের সেরডাংয়ে ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৪ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। বক্তব্যে আনোয়ার ইব্রাহিম মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিভিন্ন রাজ্যেও পৃথক আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। জোহরে প্রায় ৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মেলাকায় প্রায় ৭ হাজার মানুষ ১০১টি দলের মাধ্যমে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। সাবাহতে ১০ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হয়। তবে নেগেরি সেমবিলানে ভারী বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত শোভাযাত্রা বাতিল করা হয়।
অনুষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে পুরস্কৃত করা হয়। সেলাঙ্গরে হিন্দন আবদুল্লাহ, তেরেংগানুতে মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিরা এবং পাহাংয়ে দাতুক নরজান আহমাদকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। কেদাহ ও পেরাকেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
কেলান্তানে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ছিল ব্যতিক্রমী আয়োজন। আল তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ২০টির বেশি ঘোড়া ও প্রায় ৪০০ মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, মহানবী (সা.)-এর যুগে ঘোড়ার ঐতিহাসিক ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শোভাযাত্রায় এর প্রতীকী উপস্থিতি রাখা হয়। সামগ্রিকভাবে মালয়েশিয়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হয়েছে।

