প্রধান খবর

‘ইরান চুক্তির’ দরজা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের: অচল হরমুজ প্রণালি

ইরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর সব ধরনের সুযোগ ও সম্ভাবনা এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তেহরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনা বা বৈঠকে বসতে আগ্রহী নন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার, ওমান ও পাকিস্তানকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, গত জুনে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আগের সমঝোতা কাঠামোতে আর কোনোভাবেই ফিরবে না ওয়াশিংটন। মার্কিন এই কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এক বড় ধাক্কা খেল।

মূলত গত ১৭ জুনের সমঝোতায় একটি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বিনিময় কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ ছিল-ইরান হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি দেখাবে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ জব্দ করা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেবে। দীর্ঘমেয়াদে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের আলোচনাও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটির ধারাগুলোকে দুই দেশ নিজেদের সুবিধা মতো ব্যাখ্যা করায় মূল বিরোধ থেকেই যায়।

বর্তমান অচল অবস্থার মূলে রয়েছে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী শর্ত। ওয়াশিংটন চায় কোনো শর্ত ছাড়াই ইরান আগে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করুক এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ তুলে নিক। অপরদিকে, তেহরানের স্পষ্ট দাবি-আগে তাদের ওপর থেকে সব ধরনের অন্যায় নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং জব্দকৃত অর্থ ফেরত দিতে হবে। ‘কে আগে ছাড় দেবে’-এই জটিল মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে থমকে গেছে সব ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও কাতার, ওমান ও পাকিস্তান পরিস্থিতি শান্ত করতে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জুনের চুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় মধ্যস্থতাকারীদের পথ এখন রুদ্ধপ্রায়। কূটনীতিকদের মতে, পরিস্থিতি পুরোপুরি অচলাবস্থায় না পৌঁছালেও দ্রুত কোনো ইতিবাচক সমাধানের সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো-আন্তর্জাতিক জলসীমা হরমুজ প্রণালি শেষ পর্যন্ত দুই পরাশক্তির দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর-কষাকষির বলি হতে চলেছে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *