কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলের বারে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির জের ধরে নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামে এক ব্যবসায়ী যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে এই ঘটনায় স্থানীয়দের গণপিটুনিতে আহত হয়ে আটক হওয়া প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮) নামে আরেক যুবকেরও শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনের এমন করুণ পরিণতিতে পুরো পর্যটন নগরীজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের ঝাউতলা এলাকায় অবস্থিত ‘রেনেসাঁ হোটেল’-এর দোতলার বারে বসেছিলেন ব্যবসায়ী রাশেদসহ কয়েকজন যুবক। সেখানে আড্ডার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হঠাৎ বাগ্বিতণ্ডা ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ বাইরে থেকে কয়েকজন বখাটে যুবককে ডেকে এনে বারের ভেতর ঢুকে রাশেদের পেটে ও শরীরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরের ফিশারিঘাট ও মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্রুদ্ধ স্থানীয় জনতা ঘটনায় জড়িত সোলাইমানকে ধরে মারধর করে আহত অবস্থায় পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে গুরুতর জখম সোলাইমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করতে হোটেল বারের সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সংগৃহীত হয়েছে।
ঘটনা নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান জানান, মূল রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এ ছাড়া আইনি প্রক্রিয়া ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উক্ত হোটেলের বারটির সার্বিক কার্যক্রম স্থগিত ও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় বারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি বা গাফিলতি ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

