হিমালয়কন্যা নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় একটি আকস্মিক ভূমিকম্পের পর সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ তুষারধস ও তা থেকে উদ্ভূত বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে, অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক হালনাগাদ তথ্যে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, দুর্যোগের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন স্থানীয় নেপালি পর্যটক ও গাইড রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের তালিকায় যুক্তরাজ্যের ১২ জন নাগরিকসহ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশের পর্যটকরা অন্তর্ভুক্ত আছেন।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভূমিকম্পের পর পাহাড়ি অঞ্চলে তীব্র তুষারধস শুরু হয় এবং তা দ্রুত আকস্মিক বন্যায় রূপ নেয়। এই দুর্যোগের প্রভাব চীন সীমান্তেও বিস্তৃত হয়েছে এবং চীন অংশও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে নেপাল ও চীন যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দুর্যোগ কবলিত সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বরত অন্তত ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা, ৪৪ জন সেনাসদস্য ছাড়াও কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্ধারকারী দল দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সীমান্তে যৌথ নজরদারির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত সব দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থান নিশ্চিতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

