পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ঢাকায় বাংলাদেশের প্রীতি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রোববার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করায় এ সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
বাফুফের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকায় ম্যাচ খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রাজিল। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ৫ অথবা ৬ অক্টোবর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ম্যাচটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
রোববার ঢাকায় আসা ব্রাজিলের প্রতিনিধিদল বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জাতীয় স্টেডিয়ামে যায়। সেখানে তারা মাঠ, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি, মিডিয়া বক্স, পানি নিষ্কাশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করে। পরে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাতেও বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখে প্রতিনিধিদলটি।
ব্রাজিলের বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। এরপর ঢাকায় এসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সিবিএফের প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্রাজিল প্রায় ৯০ সদস্যের বহর নিয়ে ঢাকায় আসতে পারে।
তবে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি এ ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নেবে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ রয়েছে এবং ৩ অক্টোবর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে ব্রাজিলের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সূচি সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এখনো ব্রাজিলের প্রস্তাবে চূড়ান্ত সম্মতি জানায়নি। জাতীয় দলের সূচি, ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডো এবং খেলোয়াড়দের ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ব্রাজিলের সিনিয়র জাতীয় দল এর আগে কখনো বাংলাদেশে খেলতে আসেনি। ফলে প্রস্তাবিত ম্যাচটি চূড়ান্ত হলে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হবে বিশেষ এক আয়োজন। এর আগে ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল আর্জেন্টিনা।
সব মিলিয়ে ব্রাজিলের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর এবং প্রীতি ম্যাচের প্রস্তাবকে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ৫ বা ৬ অক্টোবরের সম্ভাব্য ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, তা নির্ভর করছে দুই ফেডারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সূচির সমন্বয়ের ওপর।

