প্রধান খবর

অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতায় ১৩ হোটেল বন্ধ

কলকাতায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৩টি হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পাশাপাশি আরও ১৬টি হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কলকাতার ৫০টির বেশি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও এসএন ব্যানার্জি রোড এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। কলকাতার বাইরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার আরও ২৯টি হোটেলকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কলকাতার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনায় এই অভিযান শুরু করা হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার পর হোটেলটির ইজারাদার ও পলাতক মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কর্মকর্তারা জানান, বন্ধ ও নোটিশ পাওয়া হোটেলগুলোর অনেকটির বৈধ অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না। কিছু হোটেলের সনদের মেয়াদ কয়েক বছর আগে শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। কোথাও জরুরি বহির্গমন পথ বন্ধ ছিল, আবার কোথাও জরুরি গেট তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার, অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং অনুমোদন ছাড়া ভবনের নকশায় পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন অনিয়মও অভিযানে ধরা পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে এসব হোটেলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে একই সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের তারাপীঠে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও ছিল। ওই ঘটনার পর তারাপীঠের ১৫টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কলকাতার শিখা ইন হোটেলে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ সড়কপথে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাঁচটি মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত এবং একটি ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনার কথা ছিল। নিহত রেবতী সরকারকে শুক্রবার রাতে কলকাতাতেই দাহ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *