কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর পাঁচ বছরের এক শিশুর ‘মিউ মিউ’ শব্দ ও অস্বাভাবিক আচরণের একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিশুটির মধ্যে জলাতঙ্কের (র্যাবিস) কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ভয় কিংবা চরম মানসিক চাপ থেকেই শিশুটি এমন আচরণ করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি স্পষ্ট করেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির নাম মুস্তারীন আদ্রিতা। সে ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর এলাকার বাসিন্দা ব্যাংকার সাব্বিরের মেয়ে। স্বজনেরা জানান, পরিবারটিতে শখ করে একটি বিড়াল পোষা হতো। গত ১৭ আগস্ট বিড়ালের আঁচড়ের শিকার হলে শিশুটিকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে তাকে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা (র্যাবিস ভ্যাক্সিন) দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিশুটির কিছু অস্বাভাবিক আচরণের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি সাধারণ কথোপকথনের বদলে বিড়ালের মতো ‘মিউ মিউ’ শব্দ করছে এবং বিড়ালের হাবভাব অনুকরণ করছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
তবে এ বিষয়ে ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, “বিড়ালের আচড়ের পর শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পরপরই প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাগতভাবে তার মধ্যে জলাতঙ্কের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ‘মিউ মিউ’ শব্দ করা বা অস্বাভাবিক আচরণের পেছনে জলাতঙ্ক রয়েছে-এমন কোনো প্রমাণ মিলেনি। মূলত বিড়ালের আঁচড় খাওয়ার আতঙ্ক বা মানসিক উদ্বেগ থেকেও শিশুরা সাময়িকভাবে এমন আচরণ করতে পারে।”
বর্তমানে শিশুটি ঢাকার একটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

