বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আগামী আসরের আয়োজন নিয়ে জমে থাকা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সার্বিক মান নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ বছর বিপিএল আয়োজন করা হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিএলের আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে তামিম ইকবাল বলেন, “বিপিএলের শেষ দুই আসরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট থেকে বোর্ডের মুনাফা হওয়ার কথা, সেখানে প্রতি আসরে ২০ কোটি টাকার মতো লোকসান গুণতে হচ্ছে।” তিনি যোগ করেন, অনিয়মের কারণে কমপ্লায়েন্স পূরণ না করা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক দায়ভার বোর্ডকে বহন করতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
‘জোড়াতালি’ দিয়ে তড়িঘড়ি কোনো টুর্নামেন্ট না করার বার্তা দিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, “যে টুর্নামেন্টে বিসিবির বিপুল অঙ্কের ক্ষতি হয় এবং পেশাদারিত্ব বজায় থাকে না, তা এই মুহূর্তে আমার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। আমি চাইলে কালকেই পাঁচটা দল নিয়ে বিপিএল নামিয়ে দিতে পারি, কিন্তু বিসিবির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে কোনো আয়োজন আমি করব না। প্রয়োজনে ১২, ১৮ বা ২৪ মাস সময় লাগুক, তবে টুর্নামেন্ট হলে তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সঠিক নিয়ম মেনেই হবে।”
আন্তর্জাতিক ও বিদেশি নামী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে যুক্ত করার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিসিবি প্রধান উল্লেখ করেন, “বিপিএল একটি দারুণ ব্র্যান্ড এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এর জনপ্রিয়তা অপরিসীম। তবে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ও নতুন বিনিয়োগকারীদের আনতে হলে দেশের প্রচলিত নীতিমালা ও বাণিজ্যিক নিয়মকানুন তাদের অনুকূলে আছে কি না, তা পর্যালোচনার বিষয়। পুরো কাঠামো পুনর্গঠন করে তবেই বিপিএলকে আমরা আরও শক্তিশালী রূপে ফেরাতে চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল অনিয়ম দূর করে ঘরোয়া ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ ক্যালেন্ডার সাজাতে এবং বিপিএল অনুপস্থিত থাকাকালীন ক্রিকেটারদের ঘাটতি পূরণে বিকল্প ফ্র্যাঞ্চাইজি বা টুর্নামেন্ট কাঠামোর ইঙ্গিতও দিয়েছে।

