সমগ্র ভারতজুড়ে মহা সমারোহ ও যথাযথ জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়েছে দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা প্রাঙ্গণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং ত্রিভিত্তিক সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ অভিবাদন গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক ইতিহাস রচনা করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো চরম উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজ্যজুড়ে পালিত হলো এবারের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান।
দিল্লির লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে ১৩ বারের মতো দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ৭৫ মিনিটের এক দীর্ঘ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। তিনি ভাষণে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান চরম অস্থিরতা, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, মাওবাদী দমন এবং নারী সংরক্ষণ বিলের ঐতিহাসিক অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। স্বাধীনতা দিবসের মূল কুচকাওয়াজ কর্মসূচিতে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে আকাশপথে পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে দিনটিকে অত্যন্ত স্মরনীয় করে রাখা হয়।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মূল কুচকাওয়াজের সূচনা করেন। বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের পর রাজ্য সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও নতুন মন্ত্রিসভার সকল জ্যেষ্ঠ সদস্য এই অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী এখান থেকে অসাধারণ দায়িত্বশীল অবদানের জন্য ১৪ জন আইপিএস পুলিশ কর্মকর্তাকে সম্মানজনক পদক প্রদান করেন। মূল অনুষ্ঠানের পূর্বে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে মাল্যদান করেন এবং পুলিশ মেমোরিয়ালে আত্মবলিদানকারী বীর শহীদ সেনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। জমকালো ট্যাবলো প্রদর্শনীর পর ভাষণকালে মুখ্যমন্ত্রী একটি আত্মনির্ভরশীল ও নিরাপদ ‘নতুন পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সল্টলেকে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ব্যারাকপুরের বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্য পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং মন্তব্য করেন, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলেও পশ্চিমবঙ্গ তার আসল সার্বভৌম শাসনের মুক্তি পেয়েছে ২০২৬ সালে এসে। এছাড়া ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিবির জওয়ানদের মাঝে মিষ্টি বিনিময়ের মাধ্যমে পরম সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দিবসটি শেষ হয়।

