সিলেট মাজারে ৩য় দফায় খোলা হলো দানবাক্স : প্রকাশ্যে চলছে টাকা গণনা

সিলেটের অত্যন্ত পবিত্র ও ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে থাকা দানবাক্সগুলো সুনির্দিষ্ট নিয়মে তৃতীয় দফায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকেই মাজার প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাপক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকাশ্যেই এ টাকা গণনা কার্যক্রম শুরু হয়, যা বেলা ২টা অতিক্রম করার পরও পূর্ণ গতিতে চলছিল। মাজারের সার্বিক আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক প্রবাহে শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিখুঁত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গঠিত বিশেষ তদারকি কমিটির সরাসরি প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই দানবাক্সের টাকা গণনার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। গণনাকাজে স্থানীয় বিভিন্ন সম্মানিত মাদরাসার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং সিলেট জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘এর আগে সর্বশেষ গত ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় মাজারের দানবাক্সগুলো উন্মোচন করা হয়েছিল। এরপর প্রায় ৩৪ দিনের দীর্ঘ সময় ব্যবধান শেষে এবার তৃতীয়বারের মতো সবার উপস্থিতে চরম স্বচ্ছতার সাথে প্রকাশ্যেই এই টাকা গণনা সম্পন্ন করা হচ্ছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় টাকা গণনা চলছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও পুরো ব্যবস্থাটি সরাসরি ঘটনাস্থলে থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন। টাকা গণনাকালে বিপুল পরিমাণ দেশীয় নগদ টাকার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ একাধিক দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা, খাঁটি স্বর্ণালংকার এবং বিবিধ ভক্তি সামগ্রীও পাওয়া গেছে। দীর্ঘ এক মাসের অধিক সময় পর দানবাক্স খোলা হওয়ায় এবার সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ পূর্বের সব রেকর্ডকে অনায়াসে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট সকল তদারককারীরা।

উল্লেখ্য, মহান ও অলৌকিক সাধকের এই মাজারের বহুল প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা, সর্বজনীন নিয়মকানুন ও পূর্ণ জবাবদিহি আনার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বিশেষ দিকনির্দেশনায় গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জরুরি মিটিংয়ে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী যৌথ কমিটি গঠন করা হয়। এই তদারকি কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পর্যায়ক্রমে মাজারের দানবাক্স উন্মোচন ও টাকা গণনার এই অভিনব স্বচ্ছ প্রক্রিয়াটি গতি লাভ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *