প্রধান খবর

চৌর্যবৃত্তির বিতর্কে পদত্যাগের পর কেমব্রিজের সাবেক অধ্যাপকের মৃত্যু

গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম) এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে সদ্য পদত্যাগ করা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডে (৪১) মারা গেছেন। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসি এলাকার একটি আবাসন থেকে উদ্ধার করা হয় এই তরুণ উচ্চাভিলাষী শিক্ষাবিদের নিথর মরদেহ। তার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে যুক্তরাজ্যের শিক্ষাঙ্গন ও সুশীল সমাজের অঙ্গনে গভীর শোক, সমবেদনা এবং চরম বিতর্কের সঞ্চার হয়েছে।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া এক বিবৃতি অনুযায়ী, জেসনের এই অকাল মৃত্যুকে সাময়িকভাবে অপ্রত্যাশিত হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এর নেপথ্যে কোনো সন্দেহজনক অপরাধমূলক আলামত নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাসের সবচেয়ে কনিষ্ঠতম কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে এক অভূতপূর্ব নজির ও ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন জেসন আরডে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার স্নাতকোত্তর গবেষণাপত্র এবং বেশ কিছু একাডেমিক প্রকাশনায় অন্যের নিবন্ধ চুরির গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

প্রকাশনায় প্লেজিয়ারিজমের এই অভিযোগগুলো জেসন আরডে কড়াভাবে অস্বীকার করে কেবল কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুলের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন। তবে মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম ট্রোলের মুখে পড়ে তীব্র মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে গত সপ্তাহে তিনি কেমব্রিজের মর্যাদাপূর্ণ অধ্যাপক পদ থেকে ইস্তফা দেন। তার শোকাহত পরিবার এক আবেগঘন শোকার্ত বার্তায় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অতিরিক্ত অপপ্রচার এবং গণমাধ্যমের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অন্যায্য চাপ জেসনের ব্যক্তিগত সহ্য ক্ষমতার বহুদূরে চলে গিয়েছিল।

জেসন আরডের জীবনের গল্পটি ছিল অনন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। শৈশবে ১১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি কোনো কথা বলতে পারতেন না এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তার মধ্যে স্বাভাবিক পড়ালেখার সক্ষমতা ছিল না। সব প্রতিকূল চড়াই-উৎরাই জয় করে কেমব্রিজের সর্বোচ্চ একাডেমিক পদে পৌঁছানোর অবিশ্বাস্য পথচলা নিয়ে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস’ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়েছে। তার এই করুণ পরিণতিতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং যুক্তরাজ্যের অধিকার কর্মীরা একে কৃষ্ণাঙ্গ গবেষকদের ওপর অতিরিক্ত সামাজিক মিডিয়া ট্রায়ালের করুণ ফল বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *