প্রধান খবর

সিডনিতে চুয়েট অ্যালামনাইদের মহাসমাবেশ : প্রবাসে যেন এক টুকরো চুয়েট

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চুয়েটিয়ানস ইন অস্ট্রেলিয়া’-এর বার্ষিক মিলনমেলা ২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৮ আগস্ট (শনিবার) নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিস্থ লিভারপুলের স্কাইভিউ ফাংশন সেন্টারে বিকেল সাড়ে চারটা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই প্রাণের উৎসব।

অস্ট্রেলিয়ার নানা প্রান্ত—মেলবোর্ন, অ্যাডিলেড, ক্যানবেরা, নিউকেসল ও ব্রিসবেন থেকে ১৯৬৮ ব্যাচ থেকে শুরু করে ২০১৯ ব্যাচের চুয়েটিয়ানরা পরিবার-পরিজন নিয়ে সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনীর এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে অংশ নেন। সঞ্চালনা করেন প্রবীর তলাপাত্র ও শর্মি বড়ুয়া এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ১৯৭০ ব্যাচের জ্যেষ্ঠ চুয়েটিয়ান আনোয়ারুল হক। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও চুয়েট উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারের ধারণকৃত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিগত বছরের প্রতিবেদন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আয়োজনে সিডনিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রতিনিধি ছাড়াও বুয়েট, কুয়েট ও রুয়েট অ্যালামনাই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সম্মাননা প্রদান পর্ব। এতে এইচএসসিতে সাফল্য অর্জনকারী দুই সন্তান আয়ান আজহার ও প্রমিতি সরকারকে বিশেষ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের জন্য অধ্যাপক জি এম শফিউল্লাহ ‘রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’, প্রবাসে বিশেষ অবদানের জন্য নাজিম ওয়ালিদ, এহতেশামুল হক ও ড. মহসিন আহমেদকে ‘কমিউনিটি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ এবং অধ্যাপক তাফসিরোজ্জামান, জয়নাল আবেদীন, সুশীল ভট্টাচার্য ও তাশফিয়া নুসরাতকে ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। সংগঠনের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ সাবেক সভাপতিগণ সম্মাননা স্মারক হস্তান্তর করেন।

মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খানের একক পরিবেশনা উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে। তাঁর সুরের মূর্ছনায় সিডনির মাটিতে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ জীবন্ত হয়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে শিল্পী নকীব খানকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সকল স্পন্সর, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং আগামী ২০২৭ সালের মিলনমেলা আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করে শেষ হয় ‘চুয়েটিয়ানস ইন অস্ট্রেলিয়া’ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: INC1501782)-এর এই আনন্দঘন আয়োজন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *