সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযানের পর ঘটনাস্থলেই ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত দুজনের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে—যাঁরা হলেন সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২) এবং ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর শেখের ৩ বছর বয়সি শিশুকন্যা খোজাইফা।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার খাসিকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ‘ইউনিক পরিবহন’ এবং বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটমুখী ‘বেঙ্গল পরিবহন’-এর মধ্যে এক বিকট শব্দে সংঘাত ঘটে। বিকট ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটির ভেতরে থাকা যাত্রীরা চরমভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন এবং মর্মান্তিকভাবে ঘটনাস্থলেই ৭ জন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় হতাহত সকল যাত্রীই ইউনিক পরিবহনের ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আহত ১৩ জন যাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু ঘটে। মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে নিহত দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অন্যান্য নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

