শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর আজ রবিবার (২৬ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন ছাড়ার পর তিনি সপরিবারে রাজধানীর গুলশানের নিজস্ব বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’-তে উঠবেন। জটিল শারীরিক পরিস্থিতির কারণে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে খুব শিগগিরই তাঁর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যাংকক অথবা সিঙ্গাপুরে যেতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত থাকায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকেরা তাঁকে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ থাকায় চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য তাঁকেও সঙ্গে করে বিদেশে নিয়ে যাবেন তিনি।
এর আগে গত শুক্রবার শারীরিক চরম অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। কিছুদিন আগে তাঁর ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। এরপর তিনি ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক একটি বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হন, যার ফলে মাঝে মাঝে তিনি কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জানান, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে কয়েক দিন আগে থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গুলশানের বাড়িতে সরানো শুরু হয়েছিল।
বর্তমানে সেই বাড়ির সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও শারীরিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

