ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ হামলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৭ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুব ফুটবলার ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসসান। শনিবার (১৯ জুলাই) তার পরিবার এবং ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্মকর্তারা ফাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিভাবান এই তরুণ ফুটবলারের অকালমৃত্যুতে ফিলিস্তিনের ক্রীড়াঙ্গনসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ফাদি আল-নাসসান স্থানীয় আল-মুঘাইয়্যির ক্লাবের একজন নিয়মিত ও জনপ্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি ফিলিস্তিনের যুব জাতীয় ফুটবল দলেরও অন্যতম সদস্য ছিলেন। শনিবার রামাল্লার প্যালেস্টাইন মেডিকেল কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ নিজ গ্রাম আল-মুঘাইয়্যিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে সতীর্থ, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে দাফন করা হয়। নিহত ফুটবলারের বাবা হামদাল্লাহ আল-নাসসান জানান, হামলার সময় নারী ও শিশুদের চিৎকার শুনে তাদের সাহায্য করতে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে গিয়েছিল তার ছেলে, আর সেখানেই সে নির্মমভাবে গুলিবিদ্ধ হয়।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১১ জুলাই অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা আল-মুঘাইয়্যির গ্রামে বর্বর হামলা চালানোর সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আল-নাসসানের উরুতে গুরুতর আঘাত লাগে। উন্নত চিকিৎসার পরও রক্তক্ষরণ ও ক্ষত গুরুতর হওয়ায় একপর্যায়ে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; জীবনের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার। পিএফএ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফাদির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩ জনে, যার মধ্যে ৫৬৮ জনই ফিলিস্তিনি ফুটবল পরিবারের সদস্য।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান নির্যাতন ও নীতিকে ইতিমধ্যে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘বর্ণবৈষম্যমূলক (অ্যাপারথাইড) ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তরুণ ও বেসামরিক ক্রীড়াবিদদের ওপর এমন পরিকল্পিত হামলা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। ফাদির শেষযাত্রায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াবিদেরা ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গন রক্ষায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাসমূহের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

