বিয়ে শেষে কনে নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে বাড়ি ফেরার পথে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে গিয়ে এক শিশু এবং এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় নবদম্পতিসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ-টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন—নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের ৭ মাস বয়সী শিশুসন্তান জীবন ইসলাম এবং একই এলাকার মোজা মিয়ার ছেলে রিয়াদ ইসলাম (২০)। নিহত রিয়াদ চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাতে বরযাত্রী দল কনেকে সঙ্গে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসযোগে বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে গাড়িটি শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারান এবং গাড়িটি তীব্র গতিতে সড়কের পাশে খাদে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর গাড়িতে থাকা বর-কনেসহ ১৪ জন আরোহী মারাত্মকভাবে আহত ও রক্তাক্ত হন। গভীর রাতে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ভেতর থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু জীবন ও তরুণ রিয়াদকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, রাতে ১৪ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুইজনকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়। বাকি ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

