প্রধান খবর

টানা সপ্তম রাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো বিমান হামলা, বন্ধের পথে হরমুজ প্রণালি

টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের অভ্যন্তরে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। দুই দেশের মধ্যকার এই তুমুল ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে নৌযান চলাচল এখন প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের প্রধান কমান্ডারের (প্রেসিডেন্ট) সরাসরি নির্দেশনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও গুঁড়িয়ে দিতেই এই ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগত হামলা চালানো হচ্ছে। অন্য দিকে, ইরানের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের মধ্যভাগের শহর ইয়াজদ, কিশম দ্বীপ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাসে গভীর রাতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন বিছানো পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেল ট্যাংকারে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সেগুলোতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে গেছে। তবে ওয়াশিংটন এই দাবি সরাসরি নাকচ করে একে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং সিরিয়ায় অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার দাবি অস্বীকার করলেও কুয়েতি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানি ড্রোন হামলায় তাঁদের বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। একই সাথে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পানি শোধন প্ল্যান্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, গত এক সপ্তাহে জর্ডানের দুটি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হওয়ার খবরও আন্তর্জাতিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের হরমুজগান প্রদেশের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলায় তাঁদের একটি ট্রেন স্টেশন, বিমানবন্দর এবং সেতুসহ ব্যাপক বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। এসব হামলায় অন্তত ৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গণমাধ্যমেও সেখানকার ‘গারিভেহ সেতু’ ধ্বংস হওয়ার সত্যতা মিলেছে। তবে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী শুধুমাত্র ইরানের সামরিক রসদ ও নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতেই নিখুঁত আঘাত হেনেছে। মূলত হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে প্রতি রাতে এই বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *