প্রধান খবর

কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে নামাজে নিষেধাজ্ঞা, কালো ব্যাজ পরে মুসল্লিদের প্রতিবাদ

পশ্চিমবঙ্গের দমদম বিমানবন্দর সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পূর্বঘোষণা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে গত শুক্রবার মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মুসল্লিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, প্রায় ১৩৬ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক মসজিদটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার একটি গোপন পরিকল্পনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১১ জুলাই কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই মসজিদে যাতায়াতের মূল পথটি ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। মসজিদ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বিমানবন্দর সংলগ্ন এই পবিত্র স্থানে আর কোনো নামাজ আদায় করা যাবে না।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকেই বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ, র‍্যাফ (RAF) এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সেখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করে পুরো এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে জুমার নামাজ আদায় ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন রাজ্য জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার দুপুরে তিনি বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটে পৌঁছে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেন। আলোচনার পর জনস্বার্থে এবং শান্তি বজায় রাখতে তিনি সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

পরবর্তীতে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী তাঁর সমর্থকদের নিয়ে নিকটবর্তী অন্য একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। তবে ঐতিহাসিক এই মসজিদে নামাজ পড়ার অধিকার হরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মুসল্লিরা। এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় মুসল্লিদের হাতে কালো কাপড় ও বুকে কালো ব্যাজ বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঐতিহাসিক এই মসজিদের ভবিষ্যৎ ও নামাজ চালুর দাবিতে মুসল্লিদের মাঝে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *