প্রধান খবর

মার্কিন হামলার জবাবে ৬ আরব দেশে ইরানের ভয়াবহ হামলা

ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নজিরবিহীন ও তীব্র পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত ছয়টি আরব দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে এই ধারাবাহিক ও সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ইরানের সামরিক বাহিনী ও এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোরালো অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এখন এক  যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

এর আগে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন বাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। অত্যাধুনিক ফাইটার জেট, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোঁড়া মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রে দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রসদ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলায় দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও চাবাহারসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-ই খামির সড়ক সেতু ধ্বংস হওয়া এবং বন্দর আব্বাসে মার্কিন বোমাবর্ষণে এক নারীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এই নৃশংস হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইরানের আইআরজিসি।

মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চালানো তেহরানের এই সফল প্রতিশোধমূলক অপারেশনের পর বাহরাইনে উচ্চ সতর্কতা জারি করে অনবরত বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়। অন্যদিকে কাতারের আকাশে ধেয়ে আসা ইরানি মিসাইল প্রতিহত করার সময় এর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দোহারে এক শিশুর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওমান সীমান্তেও মার্কিন বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার ও কৌশলগত সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান। পাশাপাশি ওমান উপকূলে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা।

কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও সফল হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ও দুটি হিমার্স (HIMARS) রকেট সিস্টেম গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ দিকে জর্ডান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝআকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করেছে দেশের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এছাড়া সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ড সেন্টারেও ভয়াবহ হামলা চালিয়ে তা লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে আইআরজিসি। তেহরানের দাবি, নিজেদের সেনা হত্যার উপযুক্ত প্রতিশোধ নিতেই সিরিয়ার এই মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *