মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৪। তীব্র এই ঝাঁকুনির পরপরই সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও গভীরতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই ভূকম্পনটির কেন্দ্রস্থল ছিল মেক্সিকোর পুয়ের্তো মাদেরো শহরের কাছাকাছি এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। অগভীর তলদেশে এই কম্পন সৃষ্টি হওয়ার কারণে এর তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে একটি বিশেষ বার্তা জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থিত উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বিপজ্জনক সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়াতে উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এই শক্তিশালী ভূকম্পনের প্রভাব শুধু মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর তীব্র ঝাঁকুনিতে পার্শ্ববর্তী দেশ গুয়াতেমালা এবং এল সালভাদরের বিভিন্ন এলাকাও মারাত্মকভাবে কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে গুয়াতেমালা সিটির বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, গুয়াতেমালার সরকারি ভবনগুলো থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন।
অন্য দিকে, মেক্সিকোর ওক্সাকা রাজ্যেও মাঝারি ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে চিয়াপাস রাজ্যের উপকূলে তীব্র আতঙ্ক ও সুনামির পূর্বাভাস থাকলেও, ওক্সাকাসহ পার্শ্ববর্তী অন্য কোনো এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংবাদ পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

