প্রধান খবর

কাতারের আল উদাইদ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ বিমান হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে এবার কাতারের আল উদাইদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বহুল সুরক্ষিত সামরিক বিমানঘাঁটিতে সরাসরি হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান সামরিক অভিযানের ১৫তম ধাপের অংশ হিসেবে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে প্রকাশিত আইআরজিসির এক জরুরি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আল উদাইদ বিমানঘাঁটিতে চালানো এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর একটি দূরপাল্লার অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি ঘাঁটিতে পার্কিং করে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কৌশলগত আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (এয়ার রিফুয়েলিং) বিমানও এই হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বিমান বাহিনীর কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সামরিক বিশ্লেষকরা।

বিবৃতিতে আইআরজিসি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে আশ্রয় দেওয়া স্বাগতিক দেশগুলোকে অবশ্যই একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। ইরানের নির্ধারিত ‘লাল রেখা’ বা রেড লাইন অতিক্রম করে কোনো বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালালে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং সেই পরিণতি হবে অত্যন্ত কঠিন ও ভয়াবহ।

একই সঙ্গে ইরানি বাহিনী প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, যদি মার্কিন পক্ষ থেকে এই আগ্রাসন বা পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখা হয়, তবে এর বিপরীতে আরও কঠোর, বিধ্বংসী ও নজিরবিহীন জবাব দেওয়া হবে। আইআরজিসির ভাষায়, তেহরানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যেকোনো পাল্টা আঘাত বৈশ্বিক যুদ্ধের ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই হামলার ঘটনার পর কাতারসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *