হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই নৃশংস হামলায় জাহাজে কর্মরত একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন ক্রু সদস্য। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত নৌপথে ইরান ও মার্কিন জোটের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ নৌপথে ‘আল বাহিয়া’ ও ‘মোমবাসা’ নামের দুটি তেলবাহী সুপার ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় মোমবাসা জাহাজে থাকা এক ভারতীয় ক্রু সদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ছাড়া ছয়জন ভারতীয় এবং দুইজন ইউক্রেনীয় নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর দুটি জাহাজেই ভয়াবহ আগুন ধরে যায়, তবে ক্রু সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় পরবর্তীতে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ইউএই এই হামলাকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই হামলার দায় স্বীকার করে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি পাল্টা বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, চূড়ান্ত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে আইনবহির্ভূতভাবে চলাচল করায় জাহাজ দুটিতে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ট্যাংকার দুটি তাদের নেভিগেশন সিস্টেম (অবস্থান নির্ণয়কারী প্রযুক্তি) সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে ওমানের জলসীমায় দক্ষিণ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছিল। বারবার সতর্ক করার পরও আন্তর্জাতিক নৌ প্রোটোকল না মানায় এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং হামলার পর জাহাজ দুটি সাগরে অচল হয়ে পড়ে। তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে ইউএই বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

