প্রধান খবর

সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন

সাতক্ষীরায় রাতভর মুষলধারে টানা বর্ষণে পুরো জেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পৌরসভাসহ জেলা ও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকেরা। জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতভর টানা বৃষ্টির কারণে সাতক্ষীরা পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এখন পানিতে থইথই করছে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, কলেজ মাঠ, সদর হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং বেশ কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়ের আঙিনায় কোমরসমান পানি জমে গেছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড থেকে শুরু করে মাঝখোলা এলাকা পর্যন্ত রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে গেছে। অনেকেই সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের আতঙ্কে সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।

শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ-অপরিকল্পিত নগরায়ন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই বছরের পর বছর ধরে এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কলেজ রোডের বাসিন্দা সবুর গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ২০ বছর ধরে এখানে বাস করছি, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকা তলিয়ে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও চরম উদাসীনতার কারণেই আজ আমাদের এই দশা।” একইভাবে বৃষ্টির কারণে কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকেরা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাতভর জেলায় ১৪৬ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবসহ জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, নতুন প্রশাসনের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন মৃতপ্রায় খাল ও নদী পুনঃখননের কাজ চলছে। শহরের জলাবদ্ধতা দ্রুত দূর করতে স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরের সব ড্রেন সচল করে পানি সরাসরি ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়ের খালে প্রবাহিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে খুব দ্রুতই পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *