প্রধান খবর

আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় হবে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন

আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং আগামী নির্বাচন সেই ব্যবস্থার আওতায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে নাকি অন্তর্বর্তী সরকার থাকবে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আপিল বিভাগের রায়ে ৫৪টি বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে এবং এসব বিষয়ে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। এছাড়া ওই রায়ের মাধ্যমে অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় আয়োজনের পাশাপাশি বিচার বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়েও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই পরবর্তী আইনগত ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইনমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন উত্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংসদে উপস্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আপিল বিভাগের এ রায়ের পর আইনজীবীরা জানান, এর ফলে সংবিধানে গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। পরে গত ৩ নভেম্বর রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া লিভ টু আপিল করেন। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিলের আবেদন জানানো হয়।

এরও আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। তবে ওই রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *