প্রধান খবর

থাইল্যান্ডে ১১ বছরের শিশুর পিকআপ চাপায় ৯ বৌদ্ধ ভিক্ষুর মৃত্যু

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক অবিশ্বাস্য ও হৃদয়বিদারক পথদুর্ঘটনায় ৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু নিহত হয়েছেন। মাত্র ১১ বছর বয়সী এক শিশুর বেপরোয়া গতিতে চালানো পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও বেশ কয়েকজন ভিক্ষু গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুকদাহান প্রদেশে ৩৫ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ৫ জন ভক্তের একটি দল ধর্মীয় তীর্থযাত্রার অংশ হিসেবে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ফুটেজে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে রক্তিম-গেরুয়া পোশাক ও ভিক্ষুদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং একটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ি পড়ে আছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই ৫ জন ভিক্ষু প্রাণ হারান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুটি তার বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়াই পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছিল এবং একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভিক্ষুদের ওপর গাড়িটি তুলে দেয়।

পুলিশ মেজর জেনারেল পাইরোজ থাইফুৎসা জানিয়েছেন, চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে শিশুটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (স্পেশাল চাইল্ড)। বর্তমানে শিশুটিকে চিকিৎসক, অভিভাবক ও কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ দলের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে গাড়িটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, ঘটনার দিন শিশুটি অসুস্থতার কারণে স্কুলে যায়নি এবং বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সে চাবি নিয়ে গাড়িটি বের করে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই দলে থাকা ফ্রা সোমপং নামের এক ভিক্ষু আতঙ্কের সেই মুহূর্ত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
“আমি দেখলাম একটি ছেলে পিকআপ চালিয়ে আমাদের দিকে আসছে, হঠাৎ করেই গাড়িটি পূর্ণ গতিতে এসে আমাদের ধাক্কা দেয়। ভাগ্যবশত আমি এবং আরেকজন ভিক্ষু সময়মতো লাফিয়ে সরে যেতে পেরেছিলাম। লাইনের সামনে থাকা প্রথম নয়জন ভিক্ষু বেঁচে গেলেও পেছনের অন্যরা প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়ে বাতাসে ছিটকে পড়েন।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে ৩ জন ভিক্ষুর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মুকদাহান প্রদেশের গভর্নর ওরায়ান বুন্নারাত এই ঘটনাকে সড়ক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনাটি কেবল আমাদের প্রদেশের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় শিক্ষা। বিশেষ করে অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরও অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *