ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য বা জানাজার অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না তাঁর ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চরম নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণেই তিনি বাবার রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা থেকে দূরে থাকার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতে নিযুক্ত মোজতবা খামেনির বিশেষ প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি জানান, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত ও প্রকাশ্য হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনির শেষকৃত্যে উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তাকেই রাষ্ট্র ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই সংবেদনশীল নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে দীর্ঘ সময়ব্যাপী দেশটিতে চলমান রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে তিনি সরাসরি জনসাধারণের মাঝে অংশ নেবেন না।
কিছুদিন আগেই ইসরায়েরলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, মোজতবা খামেনি এখন তাদের ‘মৃত্যুর মূল লক্ষ্যবস্তুতে’ রয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরণের হুমকির অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ বিমান হামলায় যুদ্ধের প্রথম দিনেই তেহরানে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তাঁর সেই আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
বর্তমানে সাবেক এই নেতার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য আগামী কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন ধাপে ও কড়া নিরাপত্তাবলয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বাবার শেষ বিদায়ে ছেলের এই অনুপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান চরম উত্তেজনা ও শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা সংকটের চিত্রটিকেই আবারও বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট করে তুলল।

