কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা আইনি সতর্কতা ছাড়াই ভারতের গুজরাটে তিনটি ঐতিহাসিক মসজিদ ও বেশ কয়েকটি মাজারসহ অন্তত ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত সোমবার (৩০ জুন) দেশটির একটি গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গুজরাটের কুচ বিভাগে আকস্মিকভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় প্রশাসন।
উচ্ছেদকৃত ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল স্থানীয় ‘জুনা কান্দলা মসজিদ’। মসজিদটির খাদেম জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও বুলডোজার নিয়ে এসে ঐতিহাসিক এই মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয়রা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। সে সময় প্রশাসনের এই কর্মকাণ্ডে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, তাদেরকে সরাসরি গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ধূলিসাৎ করে দেওয়া জুনা কান্দলা মসজিদটি ১৯৬৫ সাল থেকে দেশটির ‘ওয়াকফ বোর্ড’ অনুমোদিত এবং নিবন্ধিত একটি বৈধ ধর্মীয় স্থাপনা ছিল। এর চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলীর কারণে মসজিদটি শুধু ঐতিহ্যবাহীই ছিল না, বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও এটি অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি স্থান ছিল।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পরপরই আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার এবং নথিপত্র দেখানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের মসজিদের সীমানার কাছেও ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়েছে।” এই উচ্ছেদ অভিযানে আদিপুর এলাকার আরেকটি প্রাচীন মসজিদও সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে জমিয়ত ই-উলামা হিন্দের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কুচ বিভাগ পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধি দলের প্রধান মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাশমী জানান, দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে কেন কোনো নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এই ঐতিহাসিক মসজিদগুলো ভেঙে ফেলা হলো, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এটি একটি সাধারণ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান ছিল। পুরো অভিযানে সব মিলিয়ে ৩০টি বিভিন্ন অবকাঠামো ভাঙা হয়েছে; যার মধ্যে ১১টি ধর্মীয় উপাসনালয় ও মাজার, ১৭টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং দুটি আবাসিক ভবন রয়েছে। তবে বৈধ ওয়াকফ সম্পত্তি কেন ভাঙা হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন স্থানীয়রা।

