হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে এক লোমহর্ষক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কর্মস্থল ও কবরস্থান থেকে মানুষের মৃতদেহের অংশ চুরি করে ঘরে এনে রান্না করে খাওয়ার অভিযোগে এক হাসপাতালকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ৩০ বছর বয়সী ওই যুবকের বিরুদ্ধে নরমাংস ভক্ষণের (ক্যানিবালিজম) মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এনবিআই) জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর বুদাপেস্টে অবস্থিত তার নিজস্ব ফ্ল্যাটে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা যা দেখেন, তা ছিল কল্পনাতীত। তল্লাশি চালিয়ে ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে মানুষের হাড়, মাথার খুলি, একটি স্যুটকেসে যত্ন করে রাখা বিভিন্ন দেহাংশ এবং একটি কাচের বয়ামে সংরক্ষিত মানুষের হৃৎপিণ্ড উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই অভিযুক্ত যুবক নিজের সব অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা ও তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক মূলত একটি হাসপাতালের রোগী পরিবহন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে হাসপাতালের মর্গে তার সহজ যাতায়াত ছিল। তিনি তার কর্মস্থল এবং প্রতিবেশী দেশ স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন নির্জন কবরস্থান থেকে রাতের আঁধারে মৃত মানুষের দেহাংশ চুরি করতেন। এরপর সেগুলো নিজের ফ্ল্যাটে এনে সংরক্ষণ করতেন এবং পরবর্তীতে রান্না করে খেতেন।
ভয়াবহ এই ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ওই হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সহকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ওই যুবকের মানুষের শারীরবিদ্যা ও প্যাথলজির প্রতি দীর্ঘদিনের এক অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক আগ্রহ ছিল। শুধু তাই নয়, এর আগে তিনি বিভিন্ন পশুর মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পছন্দ করতেন বলেও তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া মানুষের বিভিন্ন হাড় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর প্রকৃত উৎস শনাক্ত করতে কাজ করছে দেশটির তদন্ত সংস্থা। একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিএনএ টেস্টসহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে আর কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

