প্রধান খবর

পারিবারিক মতে বিয়ের সিদ্ধান্ত: হবু স্বামীকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে হত্যা

পারিবারিক সম্মতিতে ঠিক হওয়া বিয়েতে মত ছিল না কিশোরী বাগদত্তার। কিন্তু পরিবারকে সেই অসম্মতির কথা জানানোর চেয়ে হবু স্বামীকে চিরতরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়াকেই সহজ পথ হিসেবে বেছে নিলেন তিনি। ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনেতে ঘটেছে এমন এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কেতন আগাওয়াল নামের এক যুবককে পাহাড়ের ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে হত্যা করার অভিযোগে পুলিশ তার হবু স্ত্রী সিয়া গোস্বাল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা মূল কারণ ও রোমহর্ষক সব তথ্য। আগামী নভেম্বর মাসে ধুমধাম করে কেতন ও সিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিয়া এই বিয়েতে মোটেও রাজি ছিলেন না। নিজের পরিবারের সদস্যদের অসম্মতির কথা জানিয়ে কষ্ট দিতে চাননি তিনি। সিয়ার বয়ান অনুযায়ী, পরিবারকে বিয়ের ব্যাপারে ‘না’ বলার চেয়ে হবু স্বামীকে হত্যা করাটাই তার কাছে বেশি সহজ মনে হয়েছিল। আর এই ভাবনা থেকেই প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কেতনকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজান সিয়া।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় একটি ঐতিহাসিক দুর্গের পাশে কেতনকে নিয়ে যান সিয়া। সেখানে কথপোকথনের একপর্যায়ে কেতনকে আকস্মিকভাবে ধাক্কা দিয়ে প্রায় ৪০০ ফুট গভীর পাহাড়ি খাদে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থুলেই মৃত্যু হয় কেতনের। ঘটনার পর তদন্তে নেমে পুলিশ সিয়া ও তার প্রেমিকের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে সিয়া নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের সমান্তরালে উঠে এসেছে এক চরম ট্র্যাজেডির গল্প। আগামী নভেম্বরে নির্ধারিত এই রাজকীয় বিয়ের জন্য দুই পরিবারেই চলছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। কেতনের বাবা, যিনি একজন প্রতিষ্ঠিত আবাসন ব্যবসায়ী, ছেলের বিয়ের জন্য ভারতের রাজস্থানে ১৭ কোটি রুপি খরচ করে একটি বিশাল প্রাসাদ বুক করেছিলেন। শুধু তাই নয়, বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য দুটি চার্টার্ড বিমানও ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের সেই বিপুল আয়োজন আর আনন্দের স্বপ্ন মুহূর্তেই রূপ নিলো এক মর্মান্তিক শোকে। পুলিশ বর্তমানে ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কোনো দিক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডে থাকা আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *