ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্মতির পর মাত্র আট দিনেই ৩ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ট্যাংকার ট্র্যাকারস জানিয়েছে, প্রায় সমপরিমাণ তেল এখনও সাগরে রপ্তানির পথে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া তাদের বার্তায় বলা হয়েছে, “১৫ জুন থেকে এখন পর্যন্ত ইরান ৩ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে এবং প্রায় একই পরিমাণ তেল সাগরে রওনা রয়েছে।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানা ৪০ দিনের সংঘাত এবং এক মাসেরও বেশি সময়ের স্থবির যুদ্ধবিরতির পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন চুক্তির খসড়া পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। ১৪ দফা ও ৮০০ শব্দের সেই খসড়া দেড় মাস পর্যালোচনার পর ১৫ জুন তেহরান স্বাক্ষরে সম্মতি জানায়।
এরপর ১৮ জুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল স্বাক্ষরের পর ইরান হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নেবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। উভয়পক্ষ এখন পর্যন্ত নিজেদের শর্ত মেনে চলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইরানের তেল রপ্তানিতে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইরানের তেল রপ্তানির এই গতি আন্তর্জাতিক বাজারেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ইরান দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তার অবস্থান পুনর্গঠন করছে।

