চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেই নিজের চেনা ছন্দ এবং জাদুকরী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। বয়স ৩৮ বছর হলেও বিশ্বমঞ্চে তার পায়ের জাদু যেন একটুও কমেনি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ ব্যবধানের দারুণ এক জয় উপহার দিয়েছেন এই ফুটবল জাদুকর।
মেসির এই অসাধারণ নৈপুণ্যের পর ফুটবল বিশ্বের বর্তমান অন্যতম সেরা তারকা ও ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে তাকে ‘বিশ্বের সেরা’ খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড এবং হ্যারি কেনের নাম জোরেশোরে আলোচনায় থাকলেও, ফরাসি তারকার নিজের দৃষ্টিতে সেরা কে- সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো দ্বিধা রাখেননি।
এমবাপে সরাসরি বলেন, “আমাদের চারজনের মধ্যে সেরা খেলোয়াড় কে? লিওনেল মেসি, এটা একেবারেই পরিষ্কার। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে সে-ই বিশ্বের সেরা ফুটবলার। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র কোনো সন্দেহ নেই।”
প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) সাবেক সতীর্থ মেসির দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রশংসা করে এমবাপে আরও বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে মেসি অবিশ্বাস্য ও অসাধারণ মানের ফুটবল খেলে আসছে। তার অনন্য ফুটবলীয় গুণাবলি বারবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণিত হয়েছে। আমি শুধু নিজের সামর্থ্যটুকু প্রদর্শন করতে চাই, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ভালো পারফর্ম করতে চাই এবং আমার দলকে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে সাহায্য করতে চাই।”
বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের তুমুল লড়াই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফরাসি এই ফরোয়ার্ড বেশ পরিণত উত্তর দেন। তিনি বলেন, “কে গোল্ডেন বুট পাবে বা কে সেরা- এসব মূলত সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক এবং সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে এমন সুস্থ বিতর্ক হওয়া ফুটবলের জন্যই ভালো।”
উল্লেখ্য, আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকের পর এমবাপে এই মন্তব্য করেছিলেন। তবে মেসির যে সেরাদের সেরা হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই- তা টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচেই আবারও প্রমাণিত হয়, যেখানে অষ্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত দুটি গোল করে দলকে জেতান এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

