শরীয়তপুরে পাঁচ বছর বয়সী এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ইমরান ছৈয়াল নামের এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদরাসার একাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে তিনি যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রোববার (২১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার ধানুকা এলাকার ‘দারুল আরকান ইবতেদায়ী মাদরাসা’ থেকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করা হয়। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। অভিযুক্ত ইমরান ছৈয়াল ওই মাদরাসার অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিশুদের কুরআন ও বাংলা পড়াতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমরান ছৈয়াল দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসার বেশ কয়েকজন কোমলমতি শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুদের নানা ভয়ভীতি দেখাতেন। সম্প্রতি এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন করলে ভুক্তভোগী শিশুটি তার পরিবারকে বিষয়টি জানায়। তবে প্রথমদিকে পরিবারটি শিশুর কথাকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। সর্বশেষ গত ১৮ জুন আবারও ওই লম্পট শিক্ষক শিশুটির শরীরে হাত দিলে মাদরাসা শেষে সে কান্নাকাটি করে পরিবারকে বিস্তারিত বলে। সেদিনই স্বজনরা মাদরাসায় ছুটে গেলেও অভিযুক্ত ইমরানকে খুঁজে পাননি। পরবর্তীতে রোববার সকালে পুনরায় মাদরাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় ইমরানকে আটক করেন।
ভুক্তভোগী শিশুর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েকদিন ধরেই আমার মেয়ে এসে শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসব কথা বলছিল, কিন্তু আমি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। গত বৃহস্পতিবার মেয়ে আবার এসে একই অভিযোগ করলে আমরা মাদরাসায় গিয়ে তাকে পাইনি। আজ এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে ধরেছি। পরে জানতে পারলাম, শুধু আমার মেয়েই না, এমন একাধিক শিশুর সঙ্গে সে এই জঘন্য কাজ করেছে। আমরা এই নরপশুর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
ধানুকা এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, “অনেক বাচ্চাই তাদের মায়েদের কাছে এই অত্যাচারের কথা বলেছিল। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে মায়েরা মুখ খোলেননি। আজ যখন একজন অভিভাবক সাহস করে প্রতিবাদ করেছেন, তখন অন্য সব অভিভাবক এসে জড়ো হয়ে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ করেন। আলেমরা সমাজের দর্পণ, তারা যদি এমন জঘন্য কাজ করেন, তাহলে আমাদের সন্তানরা কোথায় নিরাপদ? আমরা এই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই।”
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় জনতা ওই শিক্ষককে আটকে রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ধানুকা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী শিশু ও তার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

