বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে খাস জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মসজিদে ঢুকে নামাজ পড়া অবস্থায় আপন ছোট ভাইকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে বড় ভাই। গতকাল রোববার (২১ জুন) জোহর নামাজের সময় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার ১ নং আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘাতক বড় ভাই হারুন সরদার দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নজরুল সরদার (৪০) ও অভিযুক্ত হারুন সরদার ওই এলাকার মৃত কাঞ্চন সরদারের ছেলে। পৈতৃক জমি বণ্টনের পর বড় ভাই হারুন সরদারের জমির পাশে কিছু সরকারি খাস জমি ছিল, যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে সমপরিমাণ হিস্যা দাবি করে ওই জমির মালিকানা চেয়ে আসছিলেন বাকি দুই ভাইও। এ নিয়ে ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও একাধিকবার বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। সর্বশেষ রোববার সকালে ছোট ভাই নজরুল সরদার বিতর্কিত ওই খাস জমিতে বেড়া দিতে গেলে বড় ভাই চরম ক্ষুব্ধ হন।
এরই জেরে জোহরের নামাজের সময় নজরুল সরদার যখন স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়ছিলেন, তখন হারুন সরদার ধারালো অস্ত্র নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। তিনি নামাজরত অবস্থায় সেজদা বা রুকুতে থাকা ছোট ভাইয়ের ওপর আচমকা হামলা চালিয়ে হাত, পা ও পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় নজরুলকে প্রথমে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। দুর্ভাগ্যবশত, সেখানে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে পৌঁছালে নজরুলের মৃত্যু হয়।
ভয়াবহ এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা সবাই জামাতে জোহরের নামাজ পড়ছিলাম। তৃতীয় রাকাতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ পেছনের কাতারে চিৎকার শুনতে পাই। আতঙ্কিত হয়ে নামাজ ভেঙে পেছনে তাকিয়ে দেখি, হারুন সরদার পশু জবাই করার একটি লম্বা ছুরি দিয়ে নজরুলকে নৃশংসভাবে কোপাচ্ছে। আমরা বাধা দিতে গেলে সে আমাদের দিকেও ছুরি উঁচিয়ে তেড়ে আসে। এ সময় মাওলানা কবির নামে আরও এক মুসল্লি আহত হয়েছেন।”
কাজিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। নিহত নজরুল সরদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত হারুন সরদার পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে এবং এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

