প্রধান খবর

স্টারমার শিগগিরই পদত্যাগ করবেন, দাবি ট্রাম্পের : ডাউনিং স্ট্রিটের অস্বীকার

‘ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই তার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন’ বলে জোরালো দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসন ও জ্বালানি নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্টারমার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার (২২ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক আক্রমণাত্মক পোস্টে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, “যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—অভিবাসন এবং জ্বালানিতে (উত্তর সাগরের তেল ক্ষেত্র উন্মুক্তকরণ) তিনি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। আমি তাঁর মঙ্গল কামনা করি।” একই সঙ্গে ট্রাম্প বর্তমান ব্রিটিশ সরকারের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উত্তর সাগরে আবারও তেল উত্তোলন শুরু করার পরামর্শ দেন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নানামুখী জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন প্রকাশ্য ও সরাসরি মন্তব্য লন্ডনের রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। মূলত একটি প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের পরই স্টারমারের পদত্যাগের এই আলোচনা জোরালো হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ ও নানামুখী সংকটের কারণে স্টারমার সোমবারই দলের নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার কথা ভাবছেন।

তবে ট্রাম্পের এই দাবি এবং পদত্যাগের খবরটিকে স্রেফ ‘গুঞ্জন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট। ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর।”

ডাউনিং স্ট্রিট থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কিয়ার স্টারমার তাঁর পদ রক্ষায় এবং দেশের সেবা করতে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোপুরি অনড় ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গত শুক্রবারও এক বিবৃতিতে তিনি পদে টিকে থাকার এবং নিজের দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। ফলে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক চাপ ও ট্রাম্পের প্রকাশ্য ভবিষ্যদ্বাণী সত্ত্বেও, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এটি পরিষ্কার করেছে যে স্টারমারের এখনই পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *