বিরতির আগ পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলেছিল ইরাক। নরওয়েকে ০-০ গোলে আটকে রেখে প্রথমার্ধ শেষ করে তারা। কিন্তু বিরতি থেকে ফেরার মাত্র চার মিনিটের মাথায় গোল হজম করে বসে দলটি। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়ে ইরাক।
ফুটবলপ্রেমীদের মতে, ফুটবল তার নিজস্ব ৯০ মিনিটের গতিময় ছন্দের জন্যই জনপ্রিয়। সেখানে আমেরিকার গ্রীষ্মের অজুহাতে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক খেলাটির প্রাণকেই নষ্ট করছে। ফিফা বলছে তীব্র গরম ও আর্দ্রতা থেকে খেলোয়াড়দের স্বস্তি দিতে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। কিন্তু ভক্তদের অভিযোগ, এর আড়ালে সম্প্রচারকদের বিশাল বিজ্ঞাপনী বাণিজ্যই আসল উদ্দেশ্য।
এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে গত দুই দিনের ম্যাচগুলোতে। মঙ্গলবার ও বুধবার হওয়া বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে গ্যালারি থেকে ভেসে এসেছে তীব্র ভুয়াধ্বনি। দর্শকদের দাবি এই জোরপূর্বক বিরতি ফুটবলের চিরায়ত ছন্দকে স্রেফ খুন করছে।
ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এল’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। কিন্তু ম্যাচের ২২ মিনিটে রেফারি ক্লেমন্ত তুরপিন যখন হাইড্রেশন ব্রেকের বাঁশি বাজান, তখনই দুই দলের সমর্থকরাই একসঙ্গে ভুয়াধ্বনি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অপ্রয়োজনীয় বিরতি মাঠের ছন্দের বড় ক্ষতি করছে। এর প্রমাণ মিলেছে নরওয়ে বনাম ইরাক ম্যাচেও। বোস্টনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘আই’-এর সেই ম্যাচে প্রথমার্ধে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস মৃদু তাপমাত্রা থাকা সত্ত্বেও হাইড্রেশন ব্রেক দেওয়া হয়। তখনও দর্শকরা তীব্র ভুয়াধ্বনি দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

