কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া যেন একবিংশ শতাব্দীতেও অপরাধ! ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় জমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় রিনা খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী তালাক দিয়েছেন বলে এক মর্মস্পর্শী অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্বরতার এখানেই শেষ নয়; সদ্যোজাত জমজ কন্যাসন্তান দুটিকে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে দেনমোহরের (কাবিননামা) দাবি পরিশোধ করার জন্য ওই গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৫ এপ্রিল উপজেলার নতুন কোলা গ্রামে এই অমানবিক ও নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী রিনা খাতুন ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় একবিংশ শতাব্দীর এক মায়ের ওপর এমন মধ্যযুগীয় ও নিষ্ঠুর নির্যাতনে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রাকিবুলের সঙ্গে রিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দিকে তাদের সংসার সুখেরই ছিল। তবে প্রথম বিপত্তি ঘটে রিনা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর। কন্যাসন্তান মেনে নিতে না পারার মানসিকতাই ভেঙে চুরমার করে দেয় একটি সাজানো সংসার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন ভুক্তভোগী রিনা খাতুন বলেন”গর্ভধারণের ছয় মাস পূর্ণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। রিপোর্টে গর্ভে জমজ কন্যাসন্তান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা আমার ওপর অমানুষিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন।” ।
একপর্যায়ে রিনাকে জোরপূর্বক তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ তাঁর কোনো খোঁজ নেননি। পরবর্তীতে বাবার বাড়িতেই অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে ফুটফুটে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন রিনা। বর্তমানে শিশুদের বয়স দেড় মাস পার হয়ে গেলেও পাষণ্ড পিতা রাকিবুল কিংবা তার পরিবারের কেউ সন্তানদের একবারের জন্যও দেখতে আসেননি, এমনকি তাদের ভরণপোষণের কোনো দায়িত্বও নেননি; উল্টো পাঠিয়েছেন তালাকনামা।
এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অমানবিক। এই বিষয়ে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

