ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নিশ্চিত করেছেন যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তি ইরানের আগ্রহে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মরিয়া মনোভাব ও চাপের কারণেই সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের তীব্র আগ্রহ ও চাপ প্রয়োগের ফলেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিবৃতিতে খামেনি আরও জানান, নীতিগতভাবে তিনি এই সমঝোতার পক্ষে ছিলেন না। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের জনগণ এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার রক্ষার যে অঙ্গীকার করেছেন, তার ভিত্তিতেই তিনি অনুমতি দিয়েছেন। ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানা ৪০ দিনের সংঘাত, এক মাসেরও বেশি সময়ের স্থবির যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে ইসলামাবাদ এমওইউ-এর খসড়া পাঠায়। ১৪ দফা ও ৮০০ শব্দের এই খসড়া নিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় আলোচনা শেষে ইরান তা গ্রহণে সম্মত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার প্যারিসে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসলামাবাদ এমওইউ-তে স্বাক্ষর করেন। তার পাশে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। কিছুক্ষণ পর তেহরানে নিজ দপ্তরে একই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো চুক্তি স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশ করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তি, তার শর্তাবলি, ইরানের পরমাণু প্রকল্প, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার জন্য দুই দেশ ৬০ দিনের সময় পাচ্ছে। এই সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেবে না ইরান, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে।

