ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অননুমোদিত ট্যাংকার চলাচল নিয়ে সংঘর্ষের পর কেশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকায় তাদের যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন বাহিনী ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে চারটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে একটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে থামানো হয় এবং বাকি তিনটি ফিরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর রাত ২টার দিকে কেশম ও সিরিক দ্বীপে আইআরজিসির দুটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন ড্রোন হামলা হয়।
এর জবাবে ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিট সদরদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভবিষ্যতে যেকোনও আগ্রাসনের ঘটনায় তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা ছিল “তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ”। তাদের দাবি, আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটলে জবাব আর সীমিত থাকবে না। ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে এর পরিণতির দায় মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকেই নিতে হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

