আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেই নতুন ইতিহাস গড়বেন লিওনেল মেসি। সেটিই হবে তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই কীর্তিতে তার সঙ্গে নাম যুক্ত হবে পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার।
তবে মেসির লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণের রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়। তার সামনে রয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। বর্তমানে এই রেকর্ড জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজার, যার গোল সংখ্যা ১৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিওর গোল ১৫টি। অন্যদিকে মেসির ঝুলিতে রয়েছে ১৩ গোল। ফলে ক্লোজাকে ছুঁতে তার প্রয়োজন মাত্র তিন গোল। বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়কই। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে থাকবেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ইতোমধ্যেই ১২ গোল করে ছুঁয়ে ফেলেছেন পেলের রেকর্ড।
গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টের তালিকাতেও রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। এখন পর্যন্ত তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৮। পেলের ১০ অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভাঙতে প্রয়োজন মাত্র তিনটি অ্যাসিস্ট।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড অবশ্য আগেই নিজের করে নিয়েছেন মেসি। গত আসরে ২৬ ম্যাচ খেলে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে যান। এবার আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠতে পারলে তিনটি ফাইনাল খেলার বিরল কীর্তিও গড়তে পারেন তিনি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে এসেছে স্বস্তির খবর। হালকা চোট নিয়ে দলে যোগ দিলেও মেসির প্রথম ম্যাচ খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তবে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে দেখা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আঙুলের চোটে ভুগলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস শুরু থেকেই খেলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। হাঁটুর চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন রক্ষণভাগের ভরসা ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও। ফলে কোচ লিওনেল স্কালোনি ধীরে ধীরে পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছেন।
শিরোপা জয়ের পর এবার রেকর্ড ভাঙার মিশন। বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকবার আলো ছড়াতে প্রস্তুত লিওনেল মেসি। ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করতে এখন শুধু অপেক্ষা মাঠের লড়াইয়ের।

