প্রধান খবর

ইসলামের দৃষ্টিতে ‘ভালোবাসা দিবস’

বিশ্বব্যাপী ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হয়। তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এ দিবসের কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই বলে অনেক আলেম অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, এটি ইসলামি সংস্কৃতির অংশ নয়; বরং ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি দিবস।

ইতিহাসের একটি প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, রোমান যুগের ধর্মযাজক Saint Valentine-এর নামানুসারেই দিবসটির উৎপত্তি। সম্রাট Claudius II-এর আদেশ অমান্য করায় তাকে কারারুদ্ধ ও পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এমন কাহিনি বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীকালে তার স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালনের রীতি গড়ে ওঠে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের একাংশের মতে, অমুসলিম ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুকরণ থেকে বিরত থাকা মুসলমানদের জন্য কর্তব্য। হাদিসে বর্ণিত আছে, “যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত” (আবু দাউদ: ৪০৩১)। একইভাবে পবিত্র কোরআনে ব্যভিচার ও অপচয় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ (সুরা আল-ইসরা: ২৭, ৩২) উদ্ধৃত করে অনেকে বলেন, দিবসটিকে কেন্দ্র করে অনৈতিকতা বা অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে ইসলামে ভালোবাসা একটি সামগ্রিক ও নৈতিক মূল্যবোধ। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক স্নেহ, পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব, আত্মীয়স্বজন ও সমাজের প্রতি সহমর্মিতা এবং সর্বোপরি আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি ভালোবাসা এসবই ইসলামে উৎসাহিত। এ কারণে অনেক আলেমের পরামর্শ, নির্দিষ্ট দিবসের পরিবর্তে বৈধ ও শালীন উপায়ে প্রতিদিনই ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *