প্রধান খবর

শতাধিক বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে সোপর্দ করল বিএসএফ

ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমঝোতার ভিত্তিতে, বৈধ নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় শতাধিক বাংলাদেশিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার (২৯ মে) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুর সীমান্ত চেকপোস্টে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত এবং বাংলাদেশে ফিরতে ইচ্ছুক অসংখ্য মানুষ হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হতে শুরু করেন। সীমান্তে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষের দাবি, অতীতে বিভিন্ন সময়ে তারা দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে বা অবৈধ উপায়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকার পর, সাম্প্রতিক পরিবর্তিত সামাজিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে তারা এখন স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিএসএফের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী বা প্রত্যাবর্তনকারীদের ভিড় বাড়ার পর থেকেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী মানবিক ও প্রশাসনিক দিক বিবেচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চালু করেছে। সীমান্তে পৌঁছানোর পরপরই প্রত্যেক ব্যক্তির নাম, স্থায়ী ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। একই সাথে সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রত্যেকের বায়োমেট্রিক ফুটপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য পরিচয় চিহ্ন) সংগ্রহ করা হচ্ছে।

হস্তান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, প্রত্যাবর্তনকারীদের কাছে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকত্বের যেকোনো ধরনের নথিপত্র বা প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক যাচাইকরণ শেষে এই সমস্ত তথ্য ও নথির অনুলিপি বিজিবির কাছে পাঠানো হচ্ছে, যাতে তাদের প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা সহজ হয়। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে আইনি জটিলতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রত্যাবর্তনকারীদের সাময়িক আশ্রয়ের জন্য হাকিমপুর, স্বরূপনগর বাজার ও তেঁতুলিয়া সীমান্ত এলাকায় অস্থায়ীভাবে চারটি বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই কেন্দ্রগুলোতে অন্তত ৩৫০ জন বাংলাদেশিকে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই প্রথম দফায় দুই দেশের সমঝোতার ভিত্তিতে শুক্রবার প্রায় ১০০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

তবে সংকট এখনই পুরোপুরি কাটছে না। সীমান্ত ও হোল্ডিং সেন্টারগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করা আরও প্রায় ৫০০ মানুষ বর্তমানে দেশে ফেরার প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন। শুক্রবারও সীমান্ত এলাকায় নথিবিহীন বহু মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিজিবি ও বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং পরিচয় নিশ্চিতকরণ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *