স্বাধীন একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো উদ্যোগে অংশ নেবে না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর এমন স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এর পরপরই দুই দেশ প্রকাশ্যে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
প্রথমে সৌদি আরব জানিয়ে দেয়, ফিলিস্তিন প্রশ্নে অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। এরপর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ সামা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামাবাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, দেশের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত নয়। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, যাদের কথার ওপর এক দিনের জন্যও আস্থা রাখা যায় না, তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক কীভাবে সম্ভব।
পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের নীতি হলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি নয়। সে কারণে পাকিস্তানি নাগরিকরা পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইসরায়েলে ভ্রমণও করতে পারেন না। আসিফ বলেন, পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার পাসপোর্টে ইসরায়েলের নাম পর্যন্ত নেই। তিনি আরও জানান, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদ কোনোভাবেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে আরও দেশকে যুক্ত করতে চাপ বাড়ালেও ফিলিস্তিন প্রশ্ন উপেক্ষা করে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি আদায় করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

